মানবজীবনে কত সমস্যা, কত প্রশ্ন, কত কাতরতা – কিভাবে সমাধান হবে, কে প্রশ্নের জবাব দেবে আর কিভাবেই বা কাতর হৃদয় শীতল হবে তা সব সঠিক নির্ধারণ করা এক দুরূহ কঠিন কাজ । কেউ কারও কথা শোনে না, বোঝে না, স্বীকার করে না । যতক্ষণ না সেইসব কথা,নির্দেশ,উপদেশ বাণী যুগে যুগে মর্ত্ত্যধামে আবির্ভুত আদিষ্ট মহাপুরুষদের শ্রীমুখ থেকে নিঃসৃত হয় । এই ঘটনা মহাপুরুষদের জীবনী থেকে দেখতে পাই । এই কারণে তাঁদের বার বার জন্মগ্রহণ করতে হয় একই সত্যের মহিমা অভিনব রূপে প্রচারের জন্য । তা সত্ত্বেও সব মানুষ জীবনে সমস্যার সমাধান খুঁজে পায় না,প্রশ্নের জবাব মেলে না, নিগড়বদ্ধ অবস্থায় কাতর আর্তনাদ করে । এই প্রসঙ্গে বলতে দ্বিধা নেই শ্রী শ্রী গুরুদেব বাবা দুলালের সান্নিধ্য লাভে তাঁর কথা শুনে কতজনের কত জিজ্ঞাসা, কত বিদ্বেষ কত বিভেদ কত অভিমান দূর হয়ে হৃদয় নির্মল পবিত্র আধারে পরিণত হলো । এই জন্য যারা তাঁর সঙ্গ লাভ করেছেন বা করেন নি, দর্শন করেছেন বা করেন নি, সবার জন্য গুরুভ্রাতা বিজয় কৃষ্ণ ব্রহ্ম সংকলিত ‘অমৃত বাণী’ বই থেকে কিছু উদ্ধৃতি লিপিবদ্ধ করা হলো ।

 

পৃথিবীতে বেড়াতে আসা

কথা প্রসঙ্গে – দেখ আমরা এখানে অভিনয় করতে এসেছি । যা যা ঘটবে সব রিহার্সাল দেওয়া আছে,অভিনয়টি যেদিন শেষ হবে জামা-কাপড় গ্রীনরুমে রেখে চলে যেতে হবে । কিচ্ছুটি নিয়ে যাবার জো নেই । কয়েক বছরের জন্য এখানে আমরা বেড়াতে এসেছি । লোকে যেমন ছুটিতে বেড়াতে যায় । বেড়ানো শেষ হলে আবার দেশে ফিরতে হয় ।

এক ভক্ত – এটাই তো আসল দেশ ।

বাবা –    না,না,এখানে বেড়াতে এসেছি ।

 মা আত্মা

 সদ্য মাতৃহারা এক ভক্ত গুরুদশা বেশে চণ্ডী বাড়ীতে এলে বাবা তাকে চণ্ডীমার ঘরে গিয়ে মাকে প্রণাম করতে বলায়

সে বলল – এই অবস্থায় মায়ের ঘরে যাব ?

বাবা – কেন যাবে না । মা কোথায় না আছেন । মা-ধরিত্রী, মা-বসুন্ধরা বলছি । মায়ের কোলেই তো বসে আছি । মায়ের কোলে পায়খানা পেচ্ছাপ করছি, ঘুরছি,ফিরছি সবই তো মায়ের কোলে । আর মূর্তির বেলায়ই যত দোষ ! এটা এক বই, ওটা আর একটা বই – কত বই আছে কিন্তু সবই তো বিদ্যা । সব জায়গায় সব সময় মা সঙ্গে থাকে । সেই মা অর্থাৎ আত্মার সঙ্গেই তো আছি ।